প্রায় এক দশক আগে এমন এক দিনে ইন্টারের রেজাল্ট দিল। সকালে জানলাম জিপিএ ফাইভ পেয়েছি। বিকেলে জানলাম আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পারব না। ফিজিক্সে ফাইভ আসেনাই; ভেঙ্গে পড়লাম। মেনে নিতে পারছিলাম না কারণ স্বপ্নই হল টেকনিক্যাল লাইনে পড়ার। ফ্রেন্ডরা সব ফোন দিয়ে স্বান্তনা দিতে থাকল তারপরও কেউ আমার কান্না থামাতে পারল না। কলেজের আরেক ফ্রেন্ডেরও একই অবস্থা। আমরা দুইজনই ইঞ্জিনিয়ারিং প্রিপারেশন নিয়েছি। বোর্ডে গেলাম চ্যালেঞ্জ করতে। ফ্রেন্ডটা বলল, 'কি আর করার দোস্ত, মেডিক্যালে পড়তে হবে!' চ্যালেঞ্জের রেজাল্ট দেয়ার আগেই বুয়েটের এক্সাম হয়ে গেল। পরের দিন রেজাল্ট আসল, আমার ফিজিক্সে ফাইভ এসেছে। কিছুই করার ছিল না ততক্ষণে। এরপর যা দিয়েছি সব পাবলিক ও প্রকৌশলে হয়েছে; কোনটায় বাদ যাইনাই আমরা। আমার ওই ফ্রেন্ডটা যে জিদ নিয়ে বলেছিল সে সেটা করে দেখিয়েছে। সে আজ ডাক্তার; আমি আমার পথে আল্লাহর রহমতে চলতে পেরেছি; আমিও আজ ইঞ্জিনিয়ার। আজ জীবনে এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে মনে হয়; সেদিনের ওই ক্লাইমেক্সটা দরকার ছিল। না হলে আমি বুঝতাম না এই ফাইভ মিসের কষ্টটা কিরকম। আমাদের অনেক ফ্রেন্ড, জুনিয়র অনেক ট্যালেন্ট হওয়া সত্ত্বেও এই ফাইভ মিস হওয়ার কারণে ভালো জায়গায় পড়তে পারেনি। কিন্তু জীবনে তারাও তাদের ক্ষেত্রে সফল হয়েছে। 
এত কথার সারকথা হল এই, আজ ইন্টারের রেজাল্টে অনেকেরই ফাইভ মিস হয়েছে। অনেকের আজন্ম লালিত স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গিয়েছে। তাদের কষ্টটা আমি কিছুটা হলেও বুঝি। তবে তাদের ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। মনে রাখতে হবে জীবনটা এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। তুমি জানো না সামনে কি আছে। তোমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে; যেখানেই পড়ো না কেন সেখানে সফল হতে হবে; ভালো হতে হবে। আল্লাহ যেখানে রিজিক রাখেন সেখানেই আমরা চলে যাব। আমাদের এই রিজিক কেউ কেড়ে নিতে পারবে না; আর আমাদের জন্য ভালোটাই আল্লাহ রেখেছেন এই বিশ্বাস করতে হবে। 

আমার ছোট ভাই এবার জিপিএ ফাইভ পেয়েছে। আপনাদের দু'আয় তাকে স্মরণ করবেন। ধন্যবাদ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি