ব্রান্ডিং এর ভাড়ামো
একটা প্রডাক্ট ব্রান্ডিং করতে গেলে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হয়। প্রডাক্ট ব্রান্ডিং এর সাথে সংস্কৃতির একটা ভাল যোগসূত্র আছে। আপনার নতুন একটা প্রডাক্ট বাজারে আসলে মানুষ সেটাই কেন কিনবে? মানুষকে সেটা না বোঝাতে পারলে ওই প্রডাক্টকে আগানো সম্ভব না। আপনি চায়না তে যে প্রডাক্ট মার্কেটিং স্টাইল ফলো করবেন, সেটা বাংলাদেশে করলে পুরদস্তুর ধরা খাবেন। চায়না তে শাওমি মোবাইল কিন্তু কোন শপে পাওয়া যায় না( আমি যতদূর জানি) এটা অনলাইনে পাওয়া যায়। এই কাজটা বাংলাদেশে করলে এই প্রডাক্ট চলবে না। কারন আমরা হাতে না দেখে কোন প্রডাক্ট সহজে কিনতে চাই না। বাংলাদেশে অনলাইনে দেখানো হয় ঘোড়া, কিন্তু হাতে দেয়া হয় গাধা। আমি দুইবার কিনে ধরা খাইছি।
আমরা অনেকেই ভাবি, ব্রান্ডিং মানে হলো টিভি তে অনেক বেশি এ্যাড দেয়া। তাহলেই ব্রান্ডিং হয়ে যাবে। এটা ব্রান্ডিং এর একটা অংশ মাত্র। এখন একটা ট্রেন্ড শুরু হয়েছে ফেসবুকে লাইভ এসে তথাকথিত স্টাররা বিভিন্ন প্রডাক্ট, রেস্টুরেন্ট এর ব্রান্ডিং করে। কিছু হাস্যকর ব্রান্ডিং দেখে হাসি পেয়েছে এবারের রোজাতে। হাফ প্যান্ট পরে লাইভে চলে আসছে ইফতার করতে। তার মানে ব্রান্ডিং করতে যেয়ে আপনি আরো ঝামেলায় পড়ে গেলেন। কেউ ওই প্রডাক্টের ধারে কাছে যাবে না। ব্রান্ডিং এর মূল কাজ হলো সেই দেশের জনগন যেভাবে চায় ঠিক সেই ভাবে প্রডাক্ট এর গুনগুলো প্রচার করা। ছোট বেলায় লিলি সাবানের এ্যাড দেখতাম, সাবানটা হারিয়ে গেছে মার্কেট থেকে। কেন হারিয়েছে সেটা আমি গত দিন বের করলাম। শুধু মাত্র ব্রান্ডিং করতে পারেনি বলে। এভাবে অনেক প্রডাক্ট হারিয়ে যায়। আমরা সেটা খেয়াল করি না হয়তো। বিবিএ, এমবিএ তে আমাদের যে বই পড়ি সেটার সবগুলোই বিদেশি লেখকদদের। তারা তাদের কালচার চিন্তা করেই তাদের লেখা সাজিয়েছেন। এখন তাদের বই থেকে পড়ে আপনি প্রডাক্ট ব্রান্ডিং করেন তাহলে আপনার কম্পানি শেষ। আর বেশি বেশি টিভিতে এ্যাড দিলেই ব্রান্ডিং হয় না। তার একটা উদাহরন দিলেই বুঝতে পারবেন। আপনাকে যদি প্রতিদিন আপনার প্রিয় খাবার খেতে দেয়া হয় কেমন লাগবে? ২দিন, ৫ দিন, ৭দিন ভাল লাগবে। এরপর ভাল লাগবেনা।
এক সময় গরুর ভুনা আমার প্রিয় ছিল। এতটাই প্রিয় ছিল টিউশনির টাকা পেলেই আমি আগে গরুর ভুনা খেয়ে নিতাম। ডাক্তার বলে দিলেন গরু খাওয়া নিষেধ, এ্যলার্জিরর সমস্যা হবে। যেদিন নিষেধ করলেন ওই দিন সারা দিন গরুর ভুনা খাইছি। এর পরে আর খাই নি। এর পরে খাসি খাওয়া শুরু করলাম। যে কোন বিষয় বাদ দিতে চাইলে সেটা বেশি করে করলে আর সেটা করতে ইচ্ছা হবে না। তাই ব্রান্ডিং করতে যেয়ে বারবার টিভিতে এ্যাড দিলেই প্রডাক্ট সবাই চিনবে এটা ভুল। বিরক্ত হয়ে আপনার প্রডাক্ট কিনতেও না পারেন। এটার প্রমান অনেক আছে। মানুষ যদি আপনাকে পছন্দ করে, তাহলে তারা আপনার কথা শুনবে। আর মানুষ যদি আপনাকে বিশ্বাস করে তাহলে তারা আপনার সাথে বিজনেস করবে, আপনার প্রডাক্ট কিনবে। ব্রান্ডিং এ বিশ্বস্ততা অর্জন করাটা জরুরী। ভাড়ামো নয়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন