বিবাহ বিবর্তন

নব্বয়ের দশক: বর ও কনে: দুইপক্ষই চেষ্টা করত সাধ্যমত অনুষ্ঠানটা সাজাতে; না পারতে হয়তোবা কিছুটা ঋণ নিত। বর ও কনে দুইজনেই লজ্জায় মাথানত; পিনপতন নীরবতায় আচ্ছন্ন থাকত- বর রুমাল চেপে বসে থাকত; কনের মুখ ঘোমটার আড়ালে দেখা যেত না। দাড়িওয়ালা বাবা, মার্জিত পোশাক/বুরখা পড়া মায়েদের দেখা মিলত। খুব কম ছবি তোলা হত। ভিসিআরের যুগ; ভিডিও যা করা হত সেটাতে অত উৎকৃষ্টমানের গ্রাফিক্সের কাজ ছিল না। এই বিয়ে মৃত্যুবধি টিকতো। এসব বাবা-মায়ের কাছে শোনা :) 

একবিংশ শতাব্দী: বর ও কনে ইতোমধ্যে ফেইসবুকে একাধিকবার নিজেদের ফ্রেন্ড-আনফ্রেন্ডেড করে ফেলেছে। কনেপক্ষের উচ্চদরের মোহরানা মেটাতে বরপক্ষ ৬/৭ অঙ্কের ধারদেনা করে অতিকষ্টে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 'লোকে কী বলবে?' এই ভয়ে থাকে দুই পক্ষই। বর ও কনে সবার সামনে বিজাতীয় সঙ্গীতের উচ্চবিটের তালে তালে নাচানাচি করে। নানান ভঙ্গিতে, এদিক সেদিক লুকিয়ে কনে ক্যামেরা অপারেটরের কথামত উচ্চ রেজ্যুলেশানের ছবি তুলে; উচ্চ গ্রাফিক্স ও ইফেক্টসমৃদ্ধ কয়েক গিগাবাইটের ভিডিও করা হয়। এসব বিয়ের স্থায়িত্ব সম্পর্কে কোন মন্তব্য নেই (পরিসংখ্যান কী বলে?) এত কিছুর পরিবর্তন কিন্তু এরপরেও দাড়িওয়ালা বাবা ও মার্জিত পোশাক/বুরখা-হিজাবে আবৃত মায়েদের দেখা পাওয়া যায়। বাবা-মাদের চালচলনের সাথে ছেলে-মেয়ের কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায় না কারণ ........... 

কারণ, ফ্যাশনসচেতন মানুষেরা এটাকে সংজ্ঞায়িত করেছে 'জেনারেশন গ্যাপ' হিসেবে। আর আমি বলি, হয়তোবা বাবা-মা এখানে ব্যর্থ; নতুবা মা-বাবাকে আমলে না নেয়া ছেলেমেয়েগুলোর আদবের বড়ই অভাব :) 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি