বানর ব্যবস্থাপনা
মুখবন্ধ: মাঝে মাঝে কিছু জিনিস সহ্যের সীমা অতিক্রম করে। মাঝে মাঝে মানবিক দিক বিবেচনা করে ছাড় দিতে মন চায়। কিন্তু কেউ মনে রাখে না যাকে আমি সাহায্য করছি না সে একজন মানুষ; তার মাঝেও সীমাবদ্ধতা আছে। সে কেন একা পেইন নিবে?
অভিজ্ঞতা: ছাত্রাবস্থায় একবার দেশে চরম গোলযোগ দেখা দিল। তার উপর আমাদের উপর কাজের বোঝা। প্রকৌশলে পড়ি বলে কাজ সম্পন্ন করার জন্য অনেক যন্ত্রপাতি লাগবে। সে গোলযোগে আমি আর আমার এক বন্ধু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গেলাম ২০ কিলো দূরে। কেনাকেটা করে ফিরে যন্ত্র বানিয়ে শিক্ষকের নিকট উপস্থাপন করলাম। পুনশ্চঃ আমাদের দলটি ছিল ১৫ জনের স্বাভাবিকভাবে ম্যাক্সিমাম পাবলিক কাজ করবে না সেটা আগেই ধরাবাধা ছিল। তারপর কী হল? ফাইনাল রেজাল্টে দেখা গেল আমি পেয়েছি বি+ আর তাঁরা পেল এ+। কারণ তাঁরা ভালো ছাত্র, ফেসভ্যালু আছে, খাটনি না করে নিয়ে গেল মার্ক্স। আমি খাটনি করে কিছুই পেলাম না। আমি ছিলাম ক্লাসে শেষের দিকের সেরা ছাত্র, ফেসভ্যালু নাই। শিক্ষকরা ভেবে নিলেন এ বা এমন কী পারে দিয়ে দিই বি+। ফেসবুকে পোস্ট দিলাম। বাকি ১৩ জন আমাকে ব্লক মারল। শিক্ষা পেলাম। সেটা অনেকদিন পর কাজে লাগানোর জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম। কিন্তু আমি মানুষটা বরাবরের মতই বোকা ও মানবিক হবার কারণে ধরা খেয়েছি। খেয়ে যাচ্ছি।
বাস্তবায়ন: কাজ করি। আরেকজনের বানর নিজের কাঁধে নিয়ে ঘুরি মাঝেমাঝে। কিন্তু বানরের ভর যে ভারী হয় মাঝে মাঝে তাতে সহ্যের সীমা অতিক্রম করে। অনেকবছর আগের অভিজ্ঞতা হতে প্রাপ্ত শিক্ষাকে আজ বাস্তবায়ন করলাম। একটু খারাপ লেগেছে। আমি মানুষটা পাল্টাই নাই। সেদিনও পোস্ট দিয়েছিলাম মনঃকষ্টে। আজ পোস্ট দিলাম খুশিতে; আরেকজনের বেদনা দেখে নয়। অর্জিত শিক্ষাটাকে কাজে লাগাতে পেরেছি বলে। এখন পার্থক্য একটাই সেদিন ১৩ জন ব্লক মেরেছিল; আজকে হয়তোবা মারবে ১ জন।
সমাপ্তি: নো পেইন; নো গেইন (মার্ক্স)।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন