Excellent writing. .
৩৬ তম বিসিএস এর রেজাল্ট হবার পর গ্রুপে আজ আলহামদুলিল্লাহ ও অভিনন্দনের পাশাপাশি ক্ষোভ মিশ্রিত কিছু পোষ্ট নজরে পড়লো। ক্ষোভের পোষ্টগুলোর মূল বিষয়বস্তু হলো মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং এর শিক্ষার্থীদের স্ব স্ব ক্ষেত্র ছেড়ে পররাষ্ট্র ও প্রশাসনের মত ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হওয়া। যারা ক্ষোভ বা জিজ্ঞাসা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন যে তারা পেশাগত ক্ষেত্র ছেড়ে কেন জেনারেল ক্যাডারে এসেছেন তাদের জন্যই আমার এই পোষ্ট।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যে আন্ত:ক্যাডার বৈষম্য শুরু থেকেই ছিল সেটা বিগত কয়েক বছরে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে,বিশেষত লাস্ট পে স্কেলের পর গ্রেড ভিত্তিক মর্যাদা যে বিন্যাস করা হয়েছে তাতে পেশাগত ক্যাডার কর্মকর্তাদের বিশেষত ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও শিক্ষকদের প্রথম গ্রেডে যাবার পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ দেশের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থী হিসাবে ধরা হয় ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ারদের। উচ্চমাধ্যমিকের পর যে শিক্ষার্থীরা অন্যান্যদের টপকে মেডিক্যাল বা বুয়েটের মত প্রতিষ্ঠানে পড়ছে তার বিসিএস দিয়ে স্ব বিষয়ের কর্মক্ষেত্রে যোগদান করে হয়ে যাচ্ছে ২য় শ্রেণীর ক্যাডার কর্মকর্তা। উদাহরন হিসাবে সামান্য কিছু সুযোগ সুবিধার বৈষম্য তুলে ধরছি। একই সাথে ৩৬ বিসিএসে যোগদানকারি প্রশাসন ক্যাডারের একজন সহকারি কমিশনার যেখানে পরিবহন, পিয়ন, নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন সেখানে একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার সে সুবিধা পাবেন না। অথচ তারাই বেশি মেধাবী । চাকুরির চার বছর পূর্ণ হবার পরপরই যেখানে প্রশাসন ক্যাডারে পদ না থাকলেও পদোন্নতি পাবেন সেখানে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারদের সবাই সেই সুযোগ পাবেন না, অথচ তারাই বেশি মেধাবী। . কর্মজীবনে নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে প্রশাসন ক্যাডারে আপনি সচিব পর্যন্ত হতে পারবেন পক্ষান্তরে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়াররা সেটা পারবেন না। স্বাস্থ্য, প্রকৌশল মন্ত্রণালয়ের সচিব হবেন বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা এরকম বিষয় নিয়ে পড়া প্রশাসন ক্যাডারের একজন । এরচেয়ে দূর্ভাগ্যের আর কি হতে পারে। আমি আমার ক্যাডারের শীর্ষপদে যেতে পারবো না।
সামাজিক মর্যাদাগত দিক থেকেও একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারের চেয় প্রশাসন বা পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তারা বেশি সম্মান পান। একজন ডাক্তার রুগির আত্নীয়, নার্সদের হাতে প্রকৌশলী ঠিকাদারের হাতে যখন প্রহৃত হয় তখন একজন সহকারি কমিশনারের গায়ে হাত তোলার কথা কেউ চিন্তাও করেনা। . উপজেলা পর্যায়ে একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার এর বেতন বিল তার চেয়ে নিচু পদের ইউএনও এর স্বাক্ষর ছাড়া কার্যকর হয়না। ডিসি অফিসের মিটিংগুলোতে ডিসি থাকেন সভাপতি অথচ তার চেয়ে সিভিল সার্জন, প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ বড় হলেও তার যথাযথ মর্যাদা পান না। এরকম আরো বহুবিধ কারনে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়াররা তাদের পেশাগত ক্ষেত্র ছেড়ে প্রশাসন, পুলিশ বা পররাষ্ট্র ক্যাডারের প্রতি ঝুকছেন। তারা দেখিয়ে দিচ্ছেন যে তারা শুধু পেশাগত বিষয়েই দক্ষ নন জেনারেল ক্যাডারের জন্যও তারা ফিট।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন