আমি জানতাম তুমি আসবে!
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলছে। একদল জার্মান সৈন্য শত্রুদের এ্যাম্বুশের মধ্যে পড়ে গেলো। অনেক চেষ্টা করে, প্রানের ঝুকি নিয়ে সবাই এ্যাম্বুশ সাইট থেকে বেড়িয়ে আসলো, শুধু দুইজন রয়ে গেলো। তারা পুরো দলের নিরাপদ এক্সট্রিকেশনের জন্য কাভারিং ফায়ার দিয়ে যেতে লাগলো।
এই দুজনের ত্যাগের বিনিময়ে প্লাটুনের সবাই নিরাপদে পশ্চাদপসারন করতে সক্ষম হলো।
নিরাপদে পৌছার পর প্লাটুন কমান্ডার আটকে পড়া সৈনিকদের সাথে ওয়্যারলেস সেটে যোগাযোগ করলো।
- হ্যালো হাইন! শুনতে পাচ্ছো?
- জ্বি স্যার! শুনতে পাচ্ছি।
- আমরা এখন কাভারিং ফায়ার দিচ্ছি, তোমরা ফল ব্যাক করো।
- জ্বি স্যার।
হাইন ও জীম আস্তে আস্তে পিছু হটতে শুরু করলো, একটু আড়ালে এসেই দৌড় দিলো। কিছুদুর যাবার পর হাইন খেয়াল করলো জীম আসতে পারে নি। ততক্ষনে হাইন প্লাটুনের বাকিদের কাছে পৌছে এলো। ক্ষতস্থান জুড়ে ডাক্তার ব্যান্ডেজ বেঁধে দিলো। কিছুটা সুস্থ্য হবার পর হাইন প্লাটুন কমান্ডার কে বললো:
-স্যার আমি জীম কে আনতে যেতে চাই।
-তোমার গিয়ে লাভ নেই। সে বেচেঁ থাকলে নিজেই চলে আসতো। তুমি তাকে আনতে গিয়ে শুধু শুধু নিজেকে হুমকির মুখে ঠেলে দিবে?
- তবুও স্যার আমি যাবো।
বলে হাইন দৌড়ে ট্রেঞ্চ পার হলো। যেতে যেতে প্রায় ফ্রন্টলাইনের কাছাকাছি চলে এলো। কিছুদুর যাবার পর দেখলো, জীম উপুড় হয়ে পড়ে আছে। রক্তে ভেজা পুরো শরীর। হাইন প্রায় অলৌকিকভাবে জীমকে পাঁজাকোলা করে নিয়ে এলো। যত্ন করে ট্রেঞ্চে শুইয়ে দিলো।
প্লাটুন কমান্ডার জীমকে পরীক্ষা করে দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে বললেন,
-আমি তো আগেই বলেছি! কোন লাভ হবে না। তোমার বন্ধুটি মারা গেছে। তুমিও শুধু শুধু আবার গুলি খেয়েছো।
- আমার যাওয়াটা অর্থহীন ছিলো না স্যার।
- কিভাবে?? তোমার বন্ধু তো মারা গেছে।
- জ্বি স্যার, আমি যখন তার কাছে পৌছলাম, সে তখনো জীবিত ছিলো। তার শেষ কথাটা আমাকে বাকি জীবন প্রেরনা যোগাবে।
- সে কি বলেছে?
- " হাইন! আমি জানতাম তুমি আসবে!"
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন