অনেকে বলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাচ্ছি না। আসলে কথাটা সম্পূর্ন সঠিক না। যোগ্যতা থাকলে চাকরি পাওয়া কঠিন কিছু না। তবে যোগ্যতা বিষয়টা কী, সেইটার ডেফিনিশানেই আসলে সমস্যা। আমাদের দেশে আসলে ৪ বছর ইউনিভার্সিটিতে দৌড়ঝাঁপ করে যে একটা সার্টিফিকেট মিলে, সেইটাকেই যোগ্যতা ধরে বসে আছে সবাই। যোগ্যতা আসলে এইটা না।

একটা ভালো প্রতিষ্ঠানে সার্কুলার দিলে কী পরিমাণ যে সিভি পড়ে, তা ঐসব জায়গায় কাজ করলেই বোঝা যায়। দিস্তার পর দিস্তা সিভি। তাহলে এইসব সিভিকে আলাদা করে কীভাবে? সবারই তো কাগুজে সার্টিফিকেট আছে। এইরকম 'যোগ্যতা'সম্পন্ন সিভি কত বাতিল কাগজের সাথে পড়ে থাকতে দেখলাম।

যোগ্যতা আসলে কাজ করার, শেখার মানসিকতার অন্য নাম। অনেক ফ্রেশারকে দেখেছি আফসোস করে যে ভাই যে পরিমাণ স্যালারি চাই, তা তো দেয় না। ভাবটা এমন, যেন তিনি গতকাল সন্ধ্যায় গুগলের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরেছেন। তিনি যা চান, তাকে তাই দিতে হবে। নইলে ঘোর অপমান হবে তার কাগুজে সার্টিফিকেটের।

এদিক সেদিক কামলা খেটে দুটো কামাই করি বলে অনেকেই মাঝে মাঝে টিপস চায় কীভাবে কী করবে। ফ্রেশার হলে আমি সবসময় বলি স্যালারি যতই হোক, জয়েন করে ফেলো। প্রতিষ্ঠান যত ছোটই হোক, ঢুকে যাও। দেশের নামি-দামি ব্র্যান্ডের কোম্পানিতে ঢুকার জন্য তুমি দুই-তিন বছর জুতার তলা খসিয়ে ফেলার চাইতে এই দুই-তিন বছর কোন ছোটখাটো প্রতিষ্ঠানে ঢুকে কাজ শেখো। ছোট ব্যবসায় কাজের পরিধি অনেক বড়। মাথায় পুরো ব্যবসার সিস্টেম ঢুকে যাবে। অভিজ্ঞতা হবে। তোমার কাজের টেকনিকাল আর প্র্যাক্টিকাল ইমপ্লিমেন্টেশান চোখে পড়বে। এরিয়া চিনবে। মানুষ চিনবে, জানবে। তোমার ক্যারিয়ার যেই দিকে হবে, সেইদিকের অলি গলি চিনে নেবে। এইসব যোগ্যতা তোমাকে কোন কাগুজে সার্টিফিকেট দিবে না।

কিন্তু বেশিরভাগ ফ্রেশারেরই ওই এক সমস্যা। এরা ইউনিলিভার, গ্রামীণফোনের টাই পরা সুটেড-বুটেড বাবুসায়েব হবে। মাসে মাসে সিক্স ডিজিটের দেশি মুদ্রা ব্যাংক একাউন্টে ডেবিট হবে। উইকেন্ডে বালিতে যাবে, ফ্যামিলি নিয়ে চিল করবে। ওই যে, গতকাল সন্ধ্যায় গুগল থেকে রিজাইন দিয়েছে, তাই।

ছোট-বড় কয়েকটা কোম্পানির রিক্রুটমেন্ট পলিসি দেখেছি। ম্যাক্সিমামই কাজের কদর করে, কাগজের না। দেশের স্বনামধন্য এক পাবলিক ভার্সিটির এমবিএ করা কুল ছেলে কারেন্ট এসেট কাকে বলে জানে না, অথচ একাউন্টস এ জব করতে এপ্লাই করেছেন। ফলে খুব ওজনদার সার্টিফিকেট থাকলেও তার সিভির স্থান হয়েছে বাতিল কাগজের বান্ডিলে। আর এইদিকে তার জায়গায় কাজ করছে ঠিকমত শুদ্ধ বাংলা বলতে না পারা ডিগ্রি পাস করা ছেলে, যে পোড় খেয়ে খেয়ে 'এদিক সেদিক' বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ শিখে এসেছে। কোম্পানির দরকার কাজ হয়ে যাওয়া। সার্টিফিকেট ধুয়ে কোম্পানির কাজ নাই।

চাকরির অভাব নাই। অভাব আছে স্ট্র্যাটেজির। শার্ট ইন করে জুতা পলিশ মেরে কেতাদুরস্ত হয়ে ক্লাসে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেসেন্টেশান দিলেই ছেলেপেলে স্বপ্ন দেখে এই তো পাস করে গেলেই এই গেট-আপেই তমুক কোম্পানিতে জয়েন দেব।

সবার কপাল এক না। অনেকেই ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট করেই স্বপ্নের জব পেয়ে যায়। আর অনেকের কপাল ঘসে ঘসে কপাল খোলাতে হয়। দ্বিতীয় সারির জনসংখ্যাই অধিক। তাই শুধু সার্টিফিকেটের দিকে তাকিয়ে আবেগে আপ্লূত না হয়ে নিজেকে একচুয়ালি কম্পিটিটিভ করে গড়ে তোলা উচিত। এরপর দেখেন চাকরি আছে কি নাই।

Originally written by Nazmus Sakib bhai

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি